চিয়া সিড খেলে কি হয় এবং চিয়া সিডের ৯টি উপকারিতা
চিয়া সিড ছোট বীজ কিন্তু অনেক বেশি উপকার। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না চিয়া সিড খেলে কি হয়। আজকে পোস্ট থেকে জানুন চিয়া সিডের ৭টি ম্যাজিক্যাল হেলথ বেনিফিট। প্রতিদিন মাত্র ১ চা চামচ চিয়া সিড খেলে যদি আপনার হজম ভালো হয় ,যদি আপনার স্ক্রিন সুন্দর হয়ে যায় এবং ওজন কমে যায় তাহলে কেমন হয়?
চিয়া সিড দেখতে ছোট হলেও এটা কিন্তু পুষ্টিগুণে ভরপুর। এই চিয়া সিড আপনি কি ভাবে খাবেন?কারা এটা খেতে পারবে আর কাদের খাওয়া উচিত নয় চলুন জেনে নি।চিয়া সিড কিন্তু আমাদের পক্ষে খাওয়া অনেক ভালো আমাদের শরীর কে ফিট রাখতে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু এটা খাওয়ার নিয়ম বা উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের তেমন কোন ধারণা নেই।
পেইজ সুচিপত্রঃ চিয়া সিড খেলে কি হয় এবং চিয়া সিডের ৭টি উপকারিতা
চিয়া সিড কি
চিয়া সিড মূলত সেলভিয়া হিসপানিকা নামের গাছের বীজ। প্রাচীন মায়া এবং অস্টেক সভ্যতায় এটাকে বলা হতো সুপার ফুড। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে চিয়া সিডে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, আয়রন আন্টি অক্সিডেন্ট।এক চামচ চিয়া সিড থেকে আপনার শরীর পাচ্ছে একগুচ্ছ পুষ্টি কোনরকম ওষুধ ছাড়াই।
চিয়া সিডের চারটি ম্যাজিকাল হেলথ বেনিফিট। সিয়া সিড হজম শক্তিকে ভালো করেন। প্রতিদিন যদি আপনি এক চা চামচ চিয়া সিড খান তাহলে সেখান থেকে আপনি যে ফাইবার পাবেন সে ফাইবার আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশনের সমস্যা কি দূর করবে এবং আপনার হজম শক্তিকে ভালো করবে।
চিয়া সিড ওজন কমাতে সাহায্য করে
চিয়া সিড ওজন কমাতে সাহায্য করে এটা পানিকে শোষণ করে রাখে। একদম জেলের মতো হয়ে যায় যেটা আপনার পেটকে অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখে, কম খাওয়া হয় এবং আপনার এলোমেলো খাবারের রুচি হয় না। পাশাপাশি আপনার ওজন ও ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
চিয়া সিড আপনার হৃদ রোগের ঝুঁকি কমায়। চিয়া সিডে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড বিশেষ করে এল এ টাইপের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলেকে কমায়। রক্তচাপ কমায় এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতেও সাহায্য করে
ত্বক ও চুলের জন্য দারুন কাজ করে
ত্বক এবং চুলের জন্য চিয়া সিড দারুন এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং জিংক ত্বকের উজ্জল করে । আর চুলের গোড়া শক্ত এবং মজবুত করে।
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে
এটা রক্তের শর্করা যার জন্য একে বলা হয় ডায়াবেটিস ফ্রেন্ডলি খাবারের শর্করা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং রক্তে ব্লাড গ্লুকোজের স্পাইক হয় না বা হঠাৎ করে রক্তে ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল বা শর্করা বেড়ে যায় না।
হাড় মজবুত রাখে চিয়া সিড
চিয়া সিড ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটা আপনার হারকে মজবুত রাখে যারা দুধ খেতে পছন্দ করে তা তারা যদি নিয়মিত চিয়া সিড খান তাহলে সেখান থেকে কিন্তু আপনি ক্যালসিয়াম পেতে পারেন যেটা আপনার হার এবং দাঁতকে মজবুত রাখবে।
শক্তি ও স্ট্যামিনা বাড়ায়
চিয়া সিড শক্তি এবং স্ট্যামিনা বাড়ায় এটা এনডিউরেন্স ফুড হিসাবেও পরিচিত স্লো রিলিজিং এনার্জি দেয় বিশেষ করে যারা ডায়েট করেন অথবা এক্সারসাইজ করেন তারা কিন্তু চিয়া সিড খেলে অনেক লম্বা সময় সেখান থেকে এনার্জি বা শক্তি পেতে পারেন।
চিয়া সিড কিভাবে খাবেন?
চিয়া সিড আপনি কিভাবে খাবেন? এক চা চামচ চিয়া সিড আপনি একা পানি মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন। আধা ঘন্টা সময় আপনাকে ভিজিয়ে রাখতে হবে, আপনি চাইলে একটু বেশি সময়ও ভিজিয়ে রাখতে পারেন। আপনি চাইলে সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালেও চিয়া সিড মেশানো পানিটা আপনি খেতে পারেন। চিয়া সিড এই পানিতে ভিজিয়ে রাখার ফলে একটু থকথকে জেলির মতো হয়ে যায়। আপনি বিভিন্ন খাবারের সাথে যোগ করতে পারেন।
আপনি চাইলে এটাকে ওরসের সাথে যোগ করতে পারেন। এমন কি আপনি টক দইয়ের সাথে চিয়া সিড টা মিশিয়ে চিয়া পুডিংও বানাতে পারেন। এছাড়াও আপনি যে ডিটক্স পানিটা প্রতিদিন সকালে পান করেন সেটার সাথেও কিন্তু আপনি খেতে পারেন। এর সাথে আপনি একটু লেবুর রস, আদা কুচি ,পুদিনা পাতায় এগুলা সবকিছু মিলিয়ে আপনার পানিটা তৈরি করতে পারেন। আর মনে রাখবেন দিনে এক থেকে দুই চা চামচ চিয়া সিড খাওয়াই আপনার জন্য যথেষ্ট।
কারা খাবেন না এই চিয়া সিড
তাদের চিয়া সিড খাওয়া উচিত নয়? যাদের একটু বেশি গ্যাসের সমস্যা আছে, যাদের আইবিএস এর সমস্যা আছে অথবা যারা রক্ত তরল করার ঔষধ খান তাদের এই চিয়া সিড টা না খাওয়াই ভালো। এছাড়াও খুব ছোট বাচ্চা বা গর্ভবতী মায়েরাও যদি চিয়া সিড খেতে চান তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে খেতে হবে। চিয়া সিড সত্যি একটি পাওয়ার প্যাক সুপার ফুড। তবে অন্যান্য খাবারের মতোই আপনাকে এটাও পরিমিত খেতে হবে।

.webp)
টিপস পয়েন্ট ওয়ার্ল্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url