দিন দিন চুল পরে যাচ্ছে করনীয় কি তা জানতে হবে । চুল ঘন , কালো , মজবুত করতে সাহায্য করে এমন কিছু টিপস দিবো আজকের এই আর্টিকেলর মাধ্যমে । আমরা কম বেশি সবাই চুল নিয়ে চিন্তিত থাকি কারণ খুব তাড়াতাড়ি চুল নষ্ট হয়ে যায় , এর কারণ হলো আমরা চুলের যত্ন নেই না ঠিক মতো । চুলের পুষ্টি কর কিছু জিনিস ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু আমরা সেই গুলো করি না।
প্রতি দিন ঠিক ভাবে যত্ন না নিলে কিন্তু চুল হয়ে উঠতে পারে রুক্ষ ও প্রাণহীন । চুলে অবশ্যয় তেল ব্যবহার করতে হবে । চুলের যত্নেও কিন্তু ভিটামিন জনিত খাবার খেতে হয়, অনেক সময় ভিটামিনের অভাবে চুল নষ্ট হয়ে যায় ।
পেইজ সূচিপত্রঃ চুল পরা বন্ধের কিছু ঘরোয়া উপায় টিপস
চুল পড়ার চিকিৎসা
বাদাম
বাদাম যেমন চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, ওয়ালনাট এগুলোতে আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বিশেষ করে ওমেগা-৬ ফ্যাট। যা চুলের গোঁড়া সতেজ রাখতে আর চুল লম্বা করতে সাহায্য করে এই ওমেগা-৬ ফ্যাট আমাদের শরীর নিজে থেকে তৈরি করতে পারে না , খাবার থেকে নিতে হয়। এটার অভাবে মাথার চুল পরে যায়, চুলের রং হালকা হয়ে যায়। তাই প্রতিদিনের নাস্তায় কিছু বাদাম রাখতে পারেন। তবে অনেক পরিমাণে খাবেন না তাহলে ওজন বেড়ে যেতে পারে ।
হলুদ সবজি ও ফলমূল
যেমন মিষ্টি আলু, গাজর, আম,পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া এগুলো ভিটামিন A তে ভরপুর । চুলের ফলিকল, অর্থাৎ চুলের গোঁড়া যেখান থেকে চুলটা বড় হয় সেটা ঠিকমত কাজ করার জন্য দরকার ভিটামিন A । আর সেটার খুব ভালো হলো এই হলুদ আর কমলা রঙের ফল এবং সবজি । দিনে যতখানি ভিটামিন এ দরকার আধা কাপ গাজরে তার অর্ধেকর বেশি হয়ে যায় । তাই দিনে কিছু হলুদ ফল বা সবজি খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
তৈলাক্ত মাছ
প্রচলিত একটা ধারণা আছে যে ওমেগা-৩ ফ্যাটের জন্য সামুদ্রিক মাছ খেতে হবে ,যেমন টুনা,স্যামন। তবে আমাদের দেশি মাছ যেমন ইলিশ, কই, চাপিলা এইগুলোতেও অমেগা-৩ ফ্যাট আছে। এইগুলো চুল ঘন কালো করতে সাহায্য করে। সাথে প্রোটিনেরও ভালো উৎস ।
ডিম
সুন্দর চুলের জন্য ডিম আপ্নারখুব ভালো বন্ধু । আমাদের চুল শর্করা বা ফ্যাটের তৈরি না চুল প্রায় পুরোটাই প্রোটিনের তৈরি আর আমরা জানি যে খাবারে প্রোটিনের অভাব হলে চুল পরে যায়। কিন্তু আমাদের অনেকরই খাবারে যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিন থাকে না কারণ আমরা সাধারণত ভাতটাই বেশি খাই তাই সুন্দর চুলের জন্য খাবারের তালিকায় ডিম রাখবেন । সাথে ডিমে আরো কিছু আছে যেমন বায়োটিন, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি ইত্যাদি। এগুলো চুল ঘন কালো আর সুন্দর রাখতে সাহায্য করে ।
পালং শাক
চুলের উপকারে পালং শাক একটা চমৎকার খাবার এতে ৪ টা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আছে যা চুলের ভেত্র থেকে পুষ্টি যোগায়। ভিটামিন এ , ভিটামিন সি, আয়রন, ফলেট এই সব গুলোই ঘন কালো সুন্দর চুলের জন্য প্রয়োজন ।
ডাল
সুন্দর চুলের জন্য ডাল খুব উপকারি ডালে প্রোটিন আছে, ভালো পরিমাণে আয়রন আছে । আয়রন আমাদের মাথার তালুতে রক্ত সরবরাহ করে চুলের গোঁড়ায় অক্সিজেন পোঁছাতে সাহায্য করে আমরা জানি যে আয়রনের অভাবে চুল পরে । সুন্দর চুলের জন্য ডাল আরো কিছু আছে যেমন জিং ফলেট খুব পাতলা ডাল না খেয়ে ঘন করে রান্না ডাল খেলে এই পুষ্টিগুলো বেশি করে পাবেন ।
বিভিন্ন ধরণের বীজ
যেমন চিয়া সিডস, মিষ্টিকুমড়ার বিচি, সূর্যমুখীর বিচি , তিসির বীজ এই গুলোতে সুন্দর চুলের জন্য অনেকগুলো চমৎকার উপাদান আছে। যেমন চিয়া সিডসে আছে প্রচুর পরিমাণ আলফা-লিনোলিনিক এসিড একপ্রকারের ওমেগা-৩ ফ্যাট মিষ্টিকুমড়ার বিচিতে আছে জিং সূর্যমুখীর বিচিতে আছে বায়োটিন তিসির বীজে আছে সেলেনিয়াম।গবেষণায় চুল পরার সাথে এগুলোর অভাবের সম্পর্ক পাওয়া গেছে ।
ছোলা
ছোলায় চুলের জন্য ৩ টা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে । আয়রন, জিং এবং প্রোটিন এই ৩ টার যেকোনোটার অভাবে চুল পরতে পারে তাই চুল সুন্দর করতে মাঝেমাঝে খাবারে ছোলা রাখতে পারেন ।
টক দই
এটা প্রোটিনের আরেকটা উৎস সাথে চুলের জন্য উপকারী আরো কিছু উপাদান আছে , যেমন জিং প্রোটিনের জন্য মুরগির মাংসও ভালো খাবার ।
টক ফল
যেমন কমলা , মাল্টা, লেবু, কিউয়ি ফল এইগুলতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি আছে সুন্দর চুলের জন্য ভিটামিন সি খুব গুরুত্বপূণ । ভিটামিন সি এর অভাবে চুল বেঁকিয়ে পেঁচিয়ে যায়। আবার ভিটামিন সি এর অভাবহলে শরীর আয়রন শোষণ করতে পারে না ফলে চুল পরে যায় শরীর নিজে থেকে ভিটামিন সি বানাতে পারে না । তবে টকজাতীয় ফল খেলে সহজেই সেখান থেকে নিতে পারে যেমন ১টা কমলা থেকে দিনে প্রায় ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়ে যায় যারা টক একটু কম খেতে পারেন তাদের জন্য টমেটো ,পেয়ারা এই ফল গুলো ভিটামিন সি এর ভালো উৎস হতে পারে । এই ১০ প্রকার খাবার ভেতর থেকে চুলে পুষ্টি দিবে ।
তেল ও ভিটামিন ট্যাবলেট
পাম্পকিন সিড অয়েল বা কদুর তেল চুল পরে যাচ্ছে এমন রোগীদের ওপর করা একটা গবেষণায় দেখা গেছে যে এই তেল টা ৩ মাস ব্যবহার করার পরে তাদের নতুন করে চুল গজিয়েছে আর চুল আগের থেকে মোটা হয়েছে । তাই কদুর তেল ব্যভার করে দেখতে পারেন । চুল পরা ঠেকাতে কোন ভিটামিন ট্যাবলেট কার্যকর বাজারে অনেক ধরণের ভিটামিন ট্যাবলেট বিক্রি হয় অনেক চমকপ্রদ কথাবাতা থাকে সেগুলোতে তবে এর বেশিরভাগেরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই ।
চুলের জন্য বেশিরভাগ পুষ্টি উপাদান আলাদা ট্যালেটের চেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে আসলেই ভালো। তবে একটা ব্যতিক্রম আছে সেটা হলো ভিটামিন ডি খাবার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি পাওয়া খুব কঠিন । ভিটামিন ডি পাওয়ার সহজ উপায় হলো রোদে সময় কাটানো কিন্তু যাদের পক্ষে এটা সম্ভব না তারা আলাদা করে ভিটামিন ডি ট্যাবলেট খেতে পারেন । ভিটামিন ডি ট্যাবলেটের ব্যপারে একটু সতর্ক থাকবেন কারণ অতিরিক্ত ট্যাবলেট নিলেও চুল পরতে পারে
কন্ডিশনার ও চুল শুকানো
এখন বলব চুলের যত্নে কমন কিছু ভুল নিয়ে । অনেকে শ্যাম্পু ব্যবহারের পরে কন্ডিশনার ব্যবহার করেন না এটা চুলের জন্য ক্ষতিকর কারণ টা বুঝিয়ে বলি আমাদের চুল ভালো থাকার জন্য কিছু তেল দরকার হয় যা মাথার তালু থেকে এমনিতেই আসে । কিন্তু আমরা যখন শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধুই তখন সেই তেলটাও ধুয়ে চলে যায় কন্ডিশনারের কাজ হচ্ছে তেলগুলো আবার চুলে ফেরত দেয় তাই প্রতিবার শ্যাম্পু করার পরে চুলে কন্ডিশনার লাগাবেন ।
ভেজা চুল ঘষে ঘষে মুছবেন না আমরা অনেকেই গোসল করে তোয়ালে দিয়ে একদম ঘষে ঘষে চুল মুছি এতে চুল নষ্ট হয় । এমন না করে তোয়ালে দিয়ে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে দিয়ে পানি বের করবেন । ভেজা চুল আঁচড়াবেন না এতে চুল নষ্ট হয় চুল খুব কোঁকড়া না হলে একটু শুকিয়ে যাবার পর চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াবেন ।
ব্লো ড্রাইয়ার বা কালিং আয়রন দিয়ে চুল শুকাবেন না চুল বাতাসে শুকিয়ে নেয়া সবচেয়ে ভালো তবে যদি ব্লো ড্রাইয়ার বা কালিং আয়রন ব্যভার করতেই হয় তাহলে সবচেয়ে কম হিটে ব্যবহার করবেন যত অল্প সময় ধরে করা যায় সপ্তাহে একবারের বেশি ব্যবহার না করার চেষ্টা করবেন ।খুব টাইট করে চুল বাধবেন না যারা খুব টাইট করে চুল বেধে রাখেন সেই টানের কারণে চুল পড়তে পারে এটাকে বলে ট্র্যাকশন এলোপেশিয়া ।
চুল পড়ার চিকিৎসা
কিছু রোগের কারণে চুল পড়তে পারে যেমন, থাইরয়েডের রোগ , রক্তশূন্যতা আপনার যদি খাবারদাবার ঠিক থাকে চুলের যত্ন নেন ঠিকমত তাও অনেক চুল পরে তাহলে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন তিনি খতিয়ে দেখতে পারবেন কোনো রোগের কারণে এমন হচ্ছে নাকি রোগ ধরা পরলে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা যাবে চুল পরতে থাকার একটা অন্যতম কারণ হল Androgenetic Alopecia নামের রোগ ।
এই রোগের ছেলেদের মাথায় সাধারণত টাক পরা শুরু করে কপালের দুই পাশ থেকে চুল টাক হতে পারে মেয়েদের সাধারণত টাক হয় না কিন্তু চুল পাতলা হয়ে যায় মাথায় সিঁথি বড় হয়ে যায় । এই দুই ক্ষেত্রেই চিকিৎসা আছে দুইটা ওষুধ ভালো কাজ করে ওষুধগুলোর নাম হল মিনক্সিডিল আর ফিনাস্টেরাইড চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন । তিনি দেখতে পারবেন আপনার এই রোগটা হয়েছে কি না এবং কোন ওষুধে ভালো হতে পারে । ওষুধ ছারাও আরও কিছু উন্নত চিকিতসা দেশে হচ্ছে ।
টিপস পয়েন্ট ওয়ার্ল্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url