একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য গর্ভধারণের পর কি কি কাজ করা যায় সেগুলোর দিক নির্দেশনা

গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের জন্য ও শিশুর জন্য কি কি করা উচিত সেসব নিয়ে থাকছে আজকের আর্টিকেল। আপনি কি খুবই চিন্তিত যে আপনার গর্ভে থাকা শিশুর জন্য কেমন খাবার দরকার বা কেমন ব্যায়াম করা দরকার? তাহলে চলুন জেনে নি, একজন মায়ের পেটে যখন একটা শিশু আসে তখন সেই মায়ের খাবারের তালিকা করা উচিত। তার খাবারের তালিকায় রাখা উচিত ক্যালসিয়াম, আমিষ, ভিটামিন, শর্করা এই ধরনের খাবার গুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ রাখা দরকার।

একজন-গর্ভবতী-মায়ের-জন্য-গর্ভধারণের-পর


একটা শিশুর সঠিক পরিমাণে ভিটামিন পাওয়ার জন্য এবং সুস্থ সবল হওয়ার জন্য গর্ভবতী মাকে অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হয়। আবার একজন গর্ভবতী মায়ের অনেক খাবার এড়িয়ে চলতে হয়। অনেক মায়েরা আছে যারা এগুলো জানে না। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের অবশ্যই একজন ডক্টারের এর সাথে পরামর্শ করা উচিত। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের নিয়ম অনুযায়ী চলাফেরা করা দরকার।

পেইজ সূচিপত্র: একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য গর্ভধারণের পর কি কি কাজ করা যায় সেগুলোর দিক নির্দেশনা  

প্রতিদিন খাবারের রুটিন একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য।

একজন গর্ভবতী মা হিসেবে প্রতিদিন কিছু খাবারের রুটিন থাকে সেগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। মা ও শিশুর সুস্থতা ও সুষম খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

সকাল (৭-৮)টা

  • ১ গ্লাস গরম পানি বা লেবু পানি। 
  • ১ গ্লাস দুধ। 
  • ১ টি সিদ্ধ ডিম। 
  • ১-২ স্লাইস ব্রাউন ব্রেড।
  • ১ টি ফল (কলা /আপেল /পেঁপে)।

মধ্য সকাল (১০-১১)টা

  • ১ বাটির দই বা টক দই। 
  • ১ টি ফল (নারিকেল /পানি /পেঁপে আপেল)।
  • ১ মুঠো বাদাম (ভেজানো)।

দুপুরের খাবার (১-২)টা

  • ভাত ১কাপ ।
  • ডাল ১ বাটি ।
  • মাছ/ মুরগি /গরুর /মাংস (১ পিস)।
  • সবজি (১ বাটি)।
  • সালাদ (শসা /গাজর /টমেটো)

বিকাল (৪-৫)টা

  • ১ গ্লাস দুধ বা সয়া মিল্ক।
  • ২-৩ টি খেজুর বা কিসমিস।
  • ১ মত বাদাম /চিনা বাদাম। 

সন্ধ্যা (৪-৫)টা

  • ১ টি ফল (আপেল /কমলা /পেঁপে)।
  • হালকা নাস্তা (সবুজ স্যুপ /চিড়া মুড়ি দুধ দিয়ে)।

রাতের খাবার (৮-৯)

  • রুটি ২টি
  • ডাল সবজি ১বাটি।
  • মাছ মুরগির ডিম ১ পিস 
  • সালাদ ।

ঘুমানোর আগে (৯:৩০-১০)টা

  • ১ গ্লাস গরম দুধ (ইচ্ছা করলে সামান্য মধু)

গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের ব্যায়াম করার নিয়ম 

গর্ভাবস্থায় আপনি কখন থেকে ব্যায়াম শুরু করবেন? আমার প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে যে আমি যে কোন সময়েই আপনি ব্যায়াম শুরু করতে পারবেন। তবে আপনার যদি আগে থেকে ব্যায়াম করার অভ্যাস না থাকে সেক্ষেত্রে আপনি ধীরে ধীরে ব্যায়াম টা শুরু করতে পারেন। কখনোই কোন ব্যায়াম একসাথে অতিরিক্ত শরীরের উপর চাপ দিয়ে ব্যায়াম শুরু করবেন না। এটা সব সময় মনে রাখবেন। কখনোই অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ব্যায়াম শুরু করা যাবে না।

 প্রথম গর্ভধারণের শুরু থেকে আপনি ব্যায়াম শুরু করবেন। প্রথমে শুরু করবেন অল্প সময় দিয়ে। প্রথমে ১০ মিনিট তারপর হচ্ছে ১৫ মিনিট ২০ মিনিট এরকম করে আপনি আস্তে আস্তে বাড়াবেন। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আপনারা ব্যায়াম শুরু করবেন না। যদি আপনার ব্যায়াম করতে করতে দেখেন মাথা ঘুরাচ্ছে অথবা মাথা ব্যথা হচ্ছে অথবা আপনি চোখে ঝাপসা দেখছেন আপনি মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেলেন অথবা আপনি দেখছেন

 যে আপনার বুকে ব্যথা হচ্ছে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে আপনার হঠাৎ করে পানি ভেঙ্গে গিয়েছে, হঠাৎ করে ব্লিডিং হচ্ছে সে অবস্থায় কখনোই ব্যায়াম করবেন না। অবশ্যই তখন থেকে ব্যায়ামটা বন্ধ করে দিবেন। এবং সাথে সাথে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
একজন-গর্ভবতী-মায়ের-জন্য-গর্ভধারণের-পর


গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের কতদিন পর পর ডাক্তার দেখানো উচিত। 

বাচ্চা গর্ভধারণের কতদিন পর ডাক্তারের কাছে যেতে হবে? সাধারণত গর্ভধারণ করার পরে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে ডাক্তার দেখানো উচিত। তবে কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেও ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে। যেমন আপনার যদি পেটের এক পাশে ব্যথা করে বা কোন ধরনের যদি ব্লিডিং হয় বা বাদামি ডিসচার্জ যায় এ ছাড়া আপনার মিসক্যারেজ এবরশন একটু হিস্ট্রি থেকে থাকে বা প্রেগনেন্সি হিস্ট্রি থেকে অনেক সময় দেখা যায় যে ডায়াবেটিস বা কোন হরমোনাল ইমব্যালেন্স বা দেখা যায় অনেক সময় আপনার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকতে পারে।

 অনেকেই শুরুতে অনেক বমি বা মাথা ঘোরার সমস্যা থাকে দুর্বলতা অনুভব করেন সে ক্ষেত্রে কিন্তু গর্ভধারণের পরপর ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। কেনো আপনার ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার আপনাদের দেখানো উচিত? প্রথমত হচ্ছে যে আপনার গর্ভধারণে নিশ্চিত করার জন্য। কীড পরীক্ষা কিন্তু নিশ্চিত পরীক্ষা নয়। তাই অবশ্যই একটা আল্ট্রাসনোগ্রাম করে আপনার গর্ভধারণ নিশ্চিত করা উচিত। সেই সঙ্গে দিতে হবে যে বাচ্চার হার্টবিট এসেছে কিনা, এবং হার্টবিট ঠিক আছে কিনা।

 আরেকটা ইনস্ট্যান্ট ফ্যাক্টর হচ্ছে যে আপনি যে গর্ভধারণ করলেন এটা গর্ভবতী কিনা। অনেক সময় দেখা যায় যে বাচ্চা জরায়ুতে গর্ভরোপণ না হয়ে টিউবের মধ্যে বা অন্য কোন জায়গা থেকে গর্ভরোপণ হয়। অনেক সময় দেখা যায় যে হিমোগ্লোবিন সুগার বা আরো কিছু পরীক্ষা করতে সব কিছু ঠিক আছে কিনা দেখার জন্য। অনেক সময় দেখা যায় যে মায়ের সংযোজন লাগে। ফলিক এসিড বা আয়রন বা আরো কিছু সমস্যা থাকতে পারে। একজন গর্ভবতী মায়ের হরমোন ওজন হাইট ঠিক আছে কিনা এগুলো দেখানোর জন্য অবশ্যই একজন গাইনি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের যেসব কাজ করা উচিত নয়। 

খুব বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা গর্ভবতী মহিলাদের পক্ষে উচিত নয় ‌। এর ফলে পায়ের পাতা ফুলে যেতে পারে এবং শিরায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার যদি অনেকক্ষণ বসে কাজ হয় তাহলে মাঝে মাঝে বিরতি নিন অথবা পা দুটো মাঝে মাঝে টুলের ওপর তুলে বিশ্রাম করুন। ভারী কিছু বহন করতে হবে এমন কোন কাজ গর্ভবতী মহিলারা করবেন না। কোন আসবাব একদিক থেকে অন্যদিকে সরানোর কাজ করা যাবে না। 

পর্দা পাল্টানো বা ফ্যান পরিষ্কার করার মতো কাজ এই সময় করবেন না। উঁচুতে উঠে করতে হবে এরকম যে কোন কাজ গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে যাওয়া ভালো। গর্ভ অবস্থায় মারাত্মক ক্ষতিকর কাজ হলো পেইন্টিং করা কারণ পেইন্টিং এর মধ্যে অনেক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা গর্ভ অবস্থায় সন্তানের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ধূমপান ও মদ্যপান করলে সন্তানের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় শরীরের অঙ্গগুলোতে কি কি পরিবর্তন হয়। 

মস্তিষ্ক 

হরমোনার পরিবর্তনে প্রীতি ঘুমের প্রভাব পড়তে পারে। 

হৃদপিণ্ড 

বাড়িতে থাকায় শিশুকে সহায়তা করতে হৃৎপিণ্ডকে প্রায় ৫০% পর্যন্ত বেশি রক্ত পাম্প করতে হতে পারে। 

ফুসফুস 

জরায়ুতে উপরের দিকে চাপ দিলে শ্বাস নিতে কিছুটা কষ্ট হতে পারে। 

পাকস্থলী ও অন্ননালি

আরমান ও দিয়ে হজমের কারণে অম্বল, গ্যাস ও পেট ফাঁপা হতে পারে। 

যকৃত 

হরমোন প্রতিক্রিয়া জাত করা ও অতিরিক্ত বর্জ্য অপসারণে যকৃত বেশি কাজ করে। 

কিডনি 

অতিরিক্ত রক্ত তরল ও বর্জ্য ছেঁকে বের করতে কিডনি আরো বেশি কাজ করে।

অন্ত 

অন্তের গতি ধীর হলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপা হতে পারে।

মূত্রথলি

চাপ বাড়লে বারবার প্রস্রাবের অনুভূতি হতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টিপস পয়েন্ট ওয়ার্ল্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url