বাচ্চা মুখে খাবার নিয়ে বসে থাকে গিলে না? ৮ টি বড় সমাধান

আপনার বাচ্চা কি খাবার খেতে চায় না খাবার নিয়ে বসে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটা আপনি দেখতে পারেন।অনেক সময় বাচ্চারা খাবার নিয়ে জেদ করে খাবার খেতে চায় না খাবার মুখে নিয়ে বসে থাকেন, এর ৯ টি বড় সমাধান থাকছে এই আর্টিকেলে।
বাচ্চা-মুখে-খাবার-নিয়ে-বসে-থাকে-গিলে-না ৮-টি-বড়-সমাধান



 আমার নিজের চোখে দেখা অনেক বাচ্চারা আছে যাদের বয়স দুই থেকে তিন বছর কিন্তু তারা ভাত খেতে চায় না। ভাত দিলে তারা কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। মুখে ভাত নিলেও তারা গিলতে চাইতো না মুখের ভিতরে দশ মিনিট ১৫ মিনিট করে ভাত রেখে দিতো। এতে ভাত ঠান্ডা হয়ে শক্ত হয়ে যেত কিন্তু গিলতো না। অনেক সময় মায়েরা বকা দেয় মারে কিন্তু এতে কোন কাজ হয় না। এ সময় বাচ্চাকে বকা না দিয়ে সুন্দর করে বুঝিয়ে খাওয়াতে হবে। এবং মায়েদের বুদ্ধি খাটিয়ে বাচ্চাকে খাবার দিতে হবে। আজকে সেই নয়টা বড় সমাধান আপনাদের সাথে শেয়ার করব। 

পেইজ সুচিপত্রঃ বাচ্চা মুখে খাবার নিয়ে বসে থাকে গিলে না? ৮ টি বড় সমাধান

জোর করে খাবার খাওয়ানো একদম বন্ধ করুন এটা সবচেয়ে বড় কারণ

আপনার বাচ্চাকে কখনো জোর করে কোন খাবার খাওয়াবেন না এতে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। আপনি যখন জোর করে আপনার বাচ্চাকে খাবার খাওয়াতে যাবেন তখন সে জেদ করে মুখে খাবার নিয়ে বসে থাকবে, আপনার বাচ্চা তখন প্রতিবাদ করার জন্য ভাবে আমি গিলবো না তাহলে মা আর খাবার দেবে না। এই কাজটা কখনোই আপনার বাচ্চার সঙ্গে করবেন না। আমরা মায়েরা সবচেয়ে বড় ভুল করি যেটা সেটা হল জোর করে বাচ্চার পেট ভরানো, বাচ্চা খেতে না চাইলেও আমরা জোর করে খাওয়াই এবং তার হাত ধরে মুখে ঢেলে দি এটা একদমই করা যাবে না।

কি করবেন: 

বাচ্চা যদি দুই থেকে তিনবার মুখ ঘুরিয়ে নেয় তাহলে বুঝবেন ওর পেট ভরে গেছে আর জোর করে খাওয়াবেন না। কারণ একজন বাচ্চার পেট বড়দের মতো অনেক বড় না তার পেট ছোট, সে ক্ষেত্রে একজন বাচ্চার দুই থেকে তিনবার নেওয়া একটা স্বাভাবিক বিষয়। দুই থেকে তিনবার নেওয়ার পর যখন সে মুখ ঘুরিয়ে নেবে তখন বুঝে যাবেন যে তার পেট ভরে গেছে। তখন আপনি বলবেন ঠিক আছে পরে খাওয়াবো। দেখবেন পরের বেলায় ও নিজে থেকেই আগ্রহ নিয়ে খাবেন। মনে রাখবেন কোন বাচ্চা না খেয়ে থাকে না ক্ষুধা লাগলে ও নিজেই চাইবে। 

৩০ মিনিটের কঠোর নিয়ম তৈরি করুন 

 একজন বাচ্চার জন্য কিছু কার্যকর উপায় থাকে তার মধ্যে সবথেকে ভালো উপায় হলো ঘড়িতে টাইমার সেট করা। 

কিভাবে করবেন: 

বাচ্চাকে খাবার দেওয়ার সময় মোবাইলে ২০-২৫ মিনিটের টাইমার দিন। বাচ্চাকে আপনি বলবেন এই ঘড়ির কাটার টিকটিক শব্দ শেষ হওয়ার আগে আমাদের খাওয়া শেষ করতে হবে। ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় হয়ে গেলে বাচ্চা খাক বা না খাক বাচ্চার সামনে থেকে প্লেট নিয়ে নিন। কোন কথা নেই প্রথম দুইদিন বাচ্চা কান্নাকাটি করতে পারে কিন্তু তিন দিন থেকে দেখবেন ও নিজেই খাবার তাড়াতাড়ি খেয়ে নিচ্ছে মুখে আর রাখছে না দিলে ফেলছে তখন ও বুঝে যাবেন খাবার সব সময় সামনে থাকবে না। 

বাচ্চাকে খাওয়ার সময় কি কি দিবেন না। 

বাচ্চাকে খাওয়ানোর সময় কখনোই বাচ্চার সামনে মোবাইল অথবা টিভি কার্টুন দিবেন না। এখনকার ৯০% বাচ্চার না গিলার কারণ হলো মোবাইল। বাচ্চা মোবাইল দেখে ওর মন থাকে কার্টুনে মুখে খাবার আছে সেটা ও ভুলে যায়। 

আপনার শিশুকে খাওয়ানোর ১০ মিনিট আগে মোবাইল বন্ধ রাখবেন। খাওয়ানোর জায়গা নির্দিষ্ট করুন। শুধু ডাইনিং টেবিলে খাবে বিছানায় বা সোফায় নয়। প্রথমে কষ্ট হবে কিন্তু চার থেকে পাঁচ দিন পর ও মোবাইল ছাড়াই খাওয়া শিখে যাবে খাওয়ার সময় ওর সাথে গল্প করুন গান করুন। বাচ্চাকে আনন্দ দিন তখন দেখবেন ও নিজে নিজেই সবকিছু শিখে যাচ্ছে। 

বাচ্চাকে রোজা এক খাবার দেওয়া বন্ধ করুন 

আপনার বাচ্চাকে প্রতিদিন সকালে সুজি দুপুরে খিচুড়ি এটা দেখলে বড়দেরই বিরক্ত লাগে বাচ্চারা তো আরো বেশি লাগে। সব সময় চেষ্টা করবেন বা যাকে ইউনিক কিছু বানিয়ে খাওয়ানোর। বাচ্চা যেটা পছন্দ করবে না সেটা বাদ দিয়ে অন্য খাবার তৈরি করুন। 

কি করবেন: 

সপ্তাহে একটা রুটিন বানান যেখানে ভাগ করা থাকবে প্রতিদিন বাচ্চা কি খাবে। যেমন ধরুন সোমবারের ডিম ভাত, এবং মঙ্গলবার সবজি খিচুড়ি, বুধবার চিকেন সুপ ভাত। শিশুকে সবসময় চেষ্টা করবেন রঙিন প্লেট ব্যবহার করানোর কারণ রঙিন প্লেট দেখলে বাচ্চার এমনিতেই খেতে চাইবে। গাজর মটরশুটি দিয়ে ভাতটা রঙিন করে সাজিয়ে দিন বাঁচা রঙ দেখে আগ্রহ পাবে। তাই চেষ্টা করবেন আপনার নবজাতককে সবসময় ইউনিক কিছু খাওয়ানোর ইউনিট কিছু দেওয়ার। 

বাচ্চাকে খাবারের সময় মাঝে বারবার পানি দেবেন না 

অনেক মানুষ আছে বাচ্চাকে খাবারের সময় বারবার পানি দেই, অনেক মানুষ বলতে প্রতিটা মা-ই এই কাজটা করে থাকে। আমরা মনে করি মা যাকে বারবার পানি দিলে বাচ্চা খাবারটা গিলতে সুবিধা হবে, পানির সাথে খাবারটা খেয়ে ফেলবে। এটা একদমই করা উচিত নয়। এতে বাচ্চার পেট ভরে যায় তখন খাবারের রুচি নষ্ট হয়ে যায়। 

সঠিক নিয়ম 

খাবার সময় ২০ মিনিট আগে অল্প পানি দিন খাওয়ার মাঝে একদম পানি দেবেন না খাওয়ার শেষ হওয়ার 15 মিনিট পর পানি দিন এতে হজম ভালো হবে গিলতেও শিখবে। 

বাঁচায় সাথে নিচে বসে খান এতে বাচ্চা অনুকরণ করে 

আমাদের দেখে বাচ্চারা শিখে, সেজন্য উচিত বাচ্চাকে সাথে নিয়ে খাবার। কারণ বাচ্চা আপনার থেকে শিখবে। আর যদি আপনি ওকে একা বসিয়ে রেখে নিজে পরে খান ও শিখবে না।

কি করবেন: 

ওর প্লেটের পাশে আপনার প্লেট নিন একসাথে খান আপনি চিবিয়ে গিলে দেখান। দেখবেন আপনার খাবার খাওয়া দেখেন আপনার বাচ্চাও শিখে গেছে। বলুন দেখো মা কিভাবে গিলছে ও আপনাকে দেখে দেখে শিখে যাবে এটা সবচেয়ে প্রাকৃতিক শিক্ষা। 

আপনার বাচ্চার প্রশংসা করুন বকা নয় 

তুমি খাও না তুমি পচা এই কথা বলে বাঁচা আরো জেদি হয় সেজন্য চেষ্টা করবেন সব সময় বাচ্চা প্রশংসা করার।
যখন এক লকমা গিলবে সাথে সাথে হাততালি দিন বলুন বা আমার বাবু তো হিরো কত সুন্দর করে গিলে ফেলল ওর বাবা বা দাদুকে ডেকে বলুন দেখো আজ কত সুন্দর করে খেয়েছে প্রশংসা পেলে বাচ্চারা আরো ভালো করে খায়। 

দাঁত ওঠা বা অসুস্থ আছে কিনা খেয়াল করুন 

অনেক সময় বাচ্চারা মাড়িতে দাঁত উঠে বা গলায় হালকা ব্যথা থাকে তখন শক্ত খাবার গিলতে ব্যথা লাগে। মুখের ভেতর ক্রস দিয়ে দেখুন মাড়ি লাল হয়ে আছে কিনা যদি দাঁত ওঠে তাহলে নরম খাবার দিন পাতলা খিচুড়ি ছুপ কলা চটকানো বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

লেখকের মন্তব্য 

বাচ্চাকে কখনোই একদিনে এগুলো শিখাতে যাবেন না ৭ দিনের শিখানো চেষ্টা করুন দেখবেন আপনার বাচ্চা খুব তাড়াতাড়ি সব নিয়ম গুলো শিখে গেছে। আশা করি এই পোস্ট থেকে আপনি কিছুটা হলেও উপকার পাবেন। আরো সুন্দর সুন্দর পোস্ট পেতে আমাদের টিপস পয়েন্ট ওয়ার্ল্ড এর সাথে থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টিপস পয়েন্ট ওয়ার্ল্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url