বাচ্চার রাতে ঘুমায় না? ঘুম পাড়ানোর ৭টি সহজ উপায়
আপনার বাচ্চা কি রাতে ঘুমায় না? আর কোন চিন্তা নেই আপনি এই আর্টিকেল থেকে আপনার বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানোর সহজ কিছু টিপস জানতে পারবেন। একজন নতুন মায়ের সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো যখন বাচ্চা রাতে ঘুমাতে চাই না।
নতুন মা হওয়ার পর রাত জাগা যেন রুটিন হয়ে যায়। আপনি ক্লান্ত, ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে, কিন্তু বাচ্চা কিছুতেই ঘুমাচ্ছে না। এই কষ্টটা শুধু একজন মা-ই বোঝে। তবে ভয় পাবেন না, এটা কোন রোগ নয়। শুধু আপনি একা নন প্রায় ৭০% নতুন মা এই সমস্যায় ভোগেন।সামান্য কিছু আভাস পরিবর্তন করলে আপনার সোনামণি রাতে টানা ঘুমাবে।
বাচ্চা রাতে জেগে থাকার মূল কারণগুলো কি?
বাচ্চারা ইচ্ছে করে জেগে থাকে না এর পেছনে কিছু কারণ থাকে:
দিনরাত গুলিয়ে ফেলা:
জন্মের পর প্রথম ৩-৪ মাস এরা বুঝতে পারে না কখন দিন আর কখন রাত।
পরিবেশ:
ঘরে বেশি আলো, গরম বা ঠান্ডা এবং ঘুমের আগে মোবাইল বা টেলিভিশনের আলো ওদের ঘুম নষ্ট করে দেয়।
পেটে অস্বস্তি:
পেটে গ্যাস জমা, অল্প ক্ষুদা লাগা বা ঢেকুর না তোলার কারণে ওরা ঘুমাতে পারে না।
পেইজ সুচিপত্রঃ৭ টি সহজ সমাধান যা আজ থেকেই কাজ করবে
১. ঘুমের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন বানান
প্রতিদিন রাত ৯ টার মধ্যে একই কাজগুলো করুন যেমন কুসুম গরম পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে দেওয়া হালকা তেল মালিশ করুন,একটি ঘুম পাড়ানি গান বা গল্প বলুন। ১০-১৫ দিন একই রুটিন করলে আপনার নবজাতকের মস্তিষ্ক বুঝে যাবে এখন ঘুমের সময়।
আরো পড়ুনঃ বাচ্চার যত্ন কিভাবে নেবেন?নতুন মায়েদের জন্য ছয়টি কার্যকারী টিপস
২. দিনো রাতে পার্থক্য শেখান
দিনের বেলা ঘরের আলোকিত রাখুন, ওর সাথে খেলুন, কথা বলুন। আর রাতের বেলা ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার ও শান্ত রাখুন। রাতে যদি ডায়েপার বদলাতে হয় কম আলোতে করুন এবং বেশি কথা বলবেন না।
৩. পেট ভরা আছে কিনা নিশ্চিত করুন
ঘুমানোর আধা ঘন্টা আগে ভালোভাবে বুকের দুধ খাওয়ান। খাওয়ানোর পর কাঁধে নিয়ে দশ মিনিট ঢেকুর তোলান। ঢেকুর তোলানোর জন্য খাবারের পর কাঁধের ওপর নিয়ে পিঠে আস্তে আস্তে হাত বোলান । পেটে গ্যাস থাকলে ওরা কিছুতেই গভীর ঘুম ঘুমাতে পারে না।
৪. ঘুমিয়ে পরিবেশ তৈরি করুন
ঘরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখুন। খুব বেশি গরম কাপড় পড়াবেন না। একটি নরম সুতির কাঁথা ব্যবহার করুন। ঘরের কোন মশার কয়েল বা কড়া সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না।
৫. দোলনা বা অতিরিক্ত ঝাঁকানো বন্ধ করুন
অনেকেই বাচ্চাকে জোরে ঝাঁকিয়ে ঘুমপাড়ান। এতে সাময়িক ঘুমালেও মস্তিষ্কে যা পড়ে এবং কিছুক্ষণ পর কেঁদে ওঠে। তার বদলে আলতো করে পিঠে হাত বুলিয়ে দিন।
৬. স্কিন টাইম একদম বন্ধ
ঘুমানোর অন্তত এক ঘন্টা আগে থেকে মোবাইল, টিভি সব বন্ধ করুন। মোবাইলের নীল আলম বাচ্চার ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন নষ্ট করে দেয়। আপনিও ওর সামনে মোবাইল দেখবেন না।
৭. দিনের ঘুম নিয়ন্ত্রণ করুন
দিনে যদি ৪-৫ ঘন্টার টানা ঘুমাই, তাহলে রাতে জাগা থাকবেই। দিনের বেলায় ৩০ মিনিট অথবা ১ ঘন্টা পর পর ওকে একটু জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।
লেখকের মন্তব্য
একজন মা হিসেবে মনে রাখবেন এই সময়টা সাময়িক। কোন বাছাই সারা জীবন রাত জাগে না। আপনার ধৈর্য এখানে সবচেয়ে বড় ঔষধ। নিজেকে দোষ দেবেন না কখনো আপনার সেরা কাজ টা করছেন। যদি দেখেন বাচ্চার ডানা কান্না করছে জ্বর বা অন্য কোন অস্বস্তি আছে, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

টিপস পয়েন্ট ওয়ার্ল্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url