শিশুদেরকে নিয়ে আমরা অনেক চিন্তিত থাকি কখন কোন খাবার দিতে হবে এবং কি তৈরি করা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হবে একজন শিশুর জন্য শারীরিক এবং মানসিক উন্নতি দরকার আছে বাচ্চাদের সব সময় সঠিক খাবার দেওয়া প্রয়োজন।
একজন মায়ের উচিত তার নবজাতকের জন্য কখন কোনটা প্রয়োজন সেই দিকে খেয়াল রাখা। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা বাচ্চাদের কি খাওয়াতে হবে কিভাবে নবজাতকের খেয়াল রাখতে হবে কি খাওয়ালে পুষ্টি হবে সেগুলো জানে না। একজন শিশুর জন্য দরকার ভিটামিন,জিংক , বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ থাকা প্রয়োজন একজন শিশুর মধ্যে।
আপনার শিশু যখন খাবার থেকে এগুলো পাবে তখন আপনার শিশু সুস্থ এবং সবল থাকবে রোগ বালাই থেকে মুক্তি পাবে। যখন শিশু ছয় মাস হবে তখন শিশুকে বাড়তি খাবার দেওয়া প্রয়োজন পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। আপনি চেষ্টা করবেন আপনার শিশু খাবারের একটি তালিকা তৈরি করার। আপনার বাচ্চা সারাদিন কি কি খাবার খাবে সেই তালিকা তৈরি করুন।
পেইজ সুচিপত্রঃ বাচ্চার যত্ন কিভাবে নেবেন? নতুন মায়েদের জন্য পাঁচটি কার্যকারী টিপস
৬ মাস পর থেকে শিশুকে কি ধরনের খাবার খাওয়ানোর প্রয়োজন
ছয় মাস বয়সী শিশুকে সবসময় নরম খাবার দেওয়ার চেষ্টা করবেন। যেমন ধরুন মিষ্টি কুমড়ার পিউরি, আপেলে পিউরি, চটকানো পাকা কলা, ডিমের কুসুম, নরম মাছের অংশ,নরম খিচুড়ি তার মধ্যে কিছুটা সবজি দিতে পারেন কিছুটা মিষ্টি কুমড়া, পুঁইশাকের পাতা, সামান্য পরিমাণ ডাল, একটু আলু কুচি করে দিতে পারেন এভাবে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াতে পারেন, সুজি ও সাবুদানার পায়েস তৈরি করে এ সময়ে খাওয়াতে পারেন। দিনের কোন সময় কোন খাবার খাওয়াবেন শিশুকে,
সকাল (৭-৮)
মায়ের দুধ/ফর্মুলার দুধ এক ফিডার।
সকালের মাঝখানে (৯-১০)
সেমি-সলিড খাবার পাতলা সুজি, ডালপানি চালের পাতলা খিচুড়ি শুধু ভাত + ডাল মিশ্রণ।
দুপুর (১২-১)
মায়ের দুধ /ফর্মুলার দুধ এক ফিডার।
বিকেল(৩-৪)
সেমি সলিড খাবার পাতলা ভাত-মসুর ডাল, সবজি সিদ্ধ মিশিয়ে পাতলা করে দেওয়া (লাউ,কুমড়া,গাজর)
বিকেল (৫-৬)
মায়ের দুধ/ফর্মুলার দুধ এক ফিডার।
রাত(৭-৮) সেমি সলিড খাবার পাতলা খিচুড়ি/সুজি/সবজি মিশ্রিত ভাত।
ঘুমানোর আগে (৯-১০)
মায়ের দুধ/ফর্মুলার দুধ এক ফিডার।
আরও পড়ুনঃ একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য গর্ভধারণের পর কি কি কাজ করা যায় সেগুলোর দিকনির্দেশনা
এক বছর বয়সী বাচ্চার খাবার
যখন বাচ্চার বয়স ১২ মাস হয়ে যাবে মানে এক বছর তখন বাচ্চাকে দানাদার খাবার খাওয়াতে পারবেন তখন আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে গরুর দুধ খাওয়াতে পারবেন। তখন খাবারের চেঞ্জ আসবে আপনার বাচ্চার খাবারের চাহিদা টা একটু বেশি হবে আপনি দিনে পাঁচবার সলিড খাবার দিতে পারবেন। এ সময়ের পর থেকে আপনি আপনার বাচ্চাকে ডিমের সাদা অংশ টাও খাওয়াতে পারবেন। সকালের নাস্তা দিতে পারেন ভেজানো চিড়া টক দই কলা পিউড়ি করে খাওয়াতে পারেন, আবার কমলা মালটা এগুলোর জুস করেও খাওয়াতে পারবেন। দুপুরের খাবারে ভাত মটরশুঁটি মুরগি গরু-ছাগলের কলিজা খাওয়ানো যেতে পারে।
বিকাশ ও আচরণ এই সময় যা শিখবে শিশু
কথা: ১৫ মাসে ৫-৬ টা শব্দ, দুই বছরের দুই শব্দ জোড়া লাগিয়ে পড়বে যেমন মাম্মা দাও আপনি সবসময়ই চেষ্টা করবেন আপনার বাচ্চার সঙ্গে পরিষ্কার করে কথা বলার বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কখনো তোতলামি বা নকল করবেন না।
হাঁটা-চলা: এখনো দৌড়াবে সিঁড়িতে উঠবে ওকে বাধা না দিয়ে নিরাপদ জায়গায় খেলতে দিবেন।
জেদ: এই বয়সের নামই Terrible Two ওইসব কিছু নিজে করতে চাইবে। জামা কাপড় নিজে পড়তে চাইবে, এবং কি খাবারও নিজে খেতে চাইবে। বাচ্চা যা চায় তাই তাকে করতে দিন সময় বেশি লাগলেও তাকে করতে দিন। মারধর বা বকা না দিয়ে তাকে অপশন দিবেন লাল জামা পড়বে নাকি নীলটা।
বাচ্চার ঘুমের দিকে খেয়াল রাখা
এই বয়সে দিনে ১১ থেকে ১৪ ঘন্টা ঘুম দরকার দিনে একবার দুপুরে১.৫ থেকে ২ ঘন্টা এবং রাতে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা। আপনার বাচ্চার জন্য আপনি ঘুমের আগে কিছু রুটিন তৈরি করে নিন যেমন দাঁত ব্রাশ করা গল্প লাইট অফ তাহলে ও বুঝবে এখন ঘুমের সময় ।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
১৮ মাসের মধ্যে যদি বাচ্চা হাঁটা না শিখে সেক্ষেত্রে আপনি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন। আবার যখন আপনার বাচ্চা দুই বছর পূর্ণ হয়ে যাবে এর মধ্যেও যদি দুইটা শব্দ জোড়া লাগিয়ে কথা না বলতে পারে সে ক্ষেত্রেও কিন্তু ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নেওয়া খুবই জরুরী। বাচ্চার নাম ধরে ডাকার পর যদি বাচ্চা সাড়া না দেয় কিম্বা না থাকায় আপনার দিকে সেক্ষেত্রে আপনি তখন ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এইসব কারণগুলো যদি আপনার বাচ্চার মধ্যে থাকে তাহলে দ্রুতই আপনার বাচ্চাকে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিজের খেয়াল রাখা
একজন সুস্থ মা ই পারে একজন সুস্থ বাচ্চাকে বড় করতে আপনি ঠিকমত খাওয়ান ঘুম পারান এবং মাঝে মাঝে নিজের জন্য ১০ মিনিট সময় নিন। আমি ক্লান্ত বা মন খারাপ থাকলে বাঁচাও সেটা অনুভব করবে। সে ক্ষেত্রে বাচ্চার পাশাপাশি নিজের যত্ন রাখতে হবে।
উপসংহার
একজন মা হওয়া মানে শুধু একটি পরিচয় নয়,এটা একটি সারাজীবনের সাধনা। বাচ্চার খেয়ার রাখার এই পথটা কখনই সহজ নয় এখানে নির্ঘুম রাত আছে, ক্লান্তি আছে , দুশ্চিন্তা আছে। কিন্তু এর মাঝেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল আনান্দ। এই লিখা টা আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা ।এমন সুন্দর সুন্দর পোস্ট পেতে আমাদের টিপস পয়েন্ট ওয়ার্ল্ডের সাথেই থাকুন।
টিপস পয়েন্ট ওয়ার্ল্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url