আমাদের জীবনে তথ্য প্রযুক্তির কাজ কেমন
আমাদের জীবনে তথ্য প্রযুক্তি অন্যতম একটা দিকে হয়ে দারিয়েছে। আমাদের জীবন অনেক সহজ করে তুলেছে এই তথ্য প্রযুক্তি । তথ্য প্রযুক্তির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে এমন একটি বিশ্ব গঠন করা যেখানে যেকোনো ব্যক্তি বিশ্বের যেকোনো স্থান হতে যেকোনো সময় উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারি ।
আজকাল মানুষ অন লাইনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ বা তথ্য আদান প্রদানের জন্য অনলাইন সমাজ ব্যবস্থা বা ইনফরমেশন সোসাইটি গড়ে তুলেছে।
পেইজ সূচি পত্রঃ তথ্য প্রযুক্তির কাজ
যোগাযোগ মাধ্যম
আগে কার দিনের মানুষ কারো সাথে কথা বলতে হলে আগে চিঠি লিখে পাঠাতে হতো। কিন্তু এখন প্রযুক্তি মানুষের জীবন অনেক সহজ করে দিয়েছে । এখন আমরা মোবাইল বা অন্য কোন ডিজিটাল ডিভাইস ইত্যাদির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি । মোবাইল ফোন দিয়ে আপনি আপনার বন্ধু বান্ধব দের সাথে খুব সহজেই ভিডিও কলে কথা বলতে পারছেন এবং দেখতেও পারছেন ।
বর্তমান সময়ে আমরা কম বেশি সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি । এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রবাসী আত্মীয় স্বজনের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারি এবং তাদের খোজ খবর নিতে পারি । ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে কথা রেকর্ড করা ,টেলিফোনের উত্তর দেওয়া ব্যবস্থা , ভয়েস মেইল ইত্যাদি । অনেক সুযোগ সুবিধা আছে।
ইলেকট্রনিক মেইল
সনাতন ডাক ব্যবস্থার পরিবর্তে মানুষ এখন ডিজিটাল ডাক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে । ডিজিটাল ডাক ব্যবস্থার অন্যতম একটি উদাহরণ হলো ইলেকট্রনিক মেইল যাকে সংক্ষেপে ই-মেইল বলা হয়। একটি ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ও বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যম । ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেরিত তথ্য অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় হয়। প্রেরিত তথ্য প্রাপকের আনুপস্থিতেই কম্পিউটার টার্মিনালের মাধ্যমে প্রাপকের হিসাব জমা হয় ।
যোগাযোগের জন্য ই-মেইল এমন একটি ডাক ব্যবস্থা যা সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সমম্বলে গঠিত এবং ইহা বিদ্যুৎ গতিতে নির্ভুলভাবে তথ্য দিতে সক্ষম হয় । বর্তমানে কম্পিউটার , মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোনের সাহায্যে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে যেকোনো জায়গা থেকেই ই-মেইল করা যায় বা ই-মেইল গ্রহণ করা যায়। ই-মেইল সার্ভিস ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন
(১) ইনটারনেট সংযোগ বিশিষ্ট একটি কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ।
(২) ই-মেইল বার্তা তৈরি ,ই-মেইল প্রেরণ ও গ্রহণ করার একটি সফটওয়্যার ।
(৩) প্রেরক ও প্রাপকের ই-মেইল ঠিকানা।
চিকিৎসা ও সেবা
বিজ্ঞান মানুষের জীবনে যে অসীম সম্ভবনার দ্বার উন্মেচন করেছে, তার মধ্যে চিকিৎসা ক্ষেত্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। প্রাচীন ভেষজ চিকিৎসা থেকে শুরু করে আধুনিক রোবটিক সার্জারি-চিকৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি মানবসভভ্যতাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার শক্তি দিয়েছে । বিজ্ঞান চিকিৎসাকে সহজ ও দ্রুত নির্ভুল এবং জীবনরক্ষাকারি করে তুলেছে । রোগ নিণয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতির ভুমিকা অসামান্য । এক্স-র, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, আল্ট্রাসাউন্ড প্রতিটি প্রযুক্তি রোগের প্রকৃত অবস্থা ।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে হাসপাতালে রোগী ভর্তি , সীট বরাদ্ধ, বিল প্রসেসিং এবং হাসপাতাল হতে রিলিজ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে অটোমেশন পদ্ধতি ।বিভিন্ন রোগের লক্ষণ ,সংক্রামণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে তৈরি করা হচ্ছে এনিমেশন বা ভিডিও ক্লিপ। তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার মানুষের অর্থ ও সময় অপচয়কে রোধ এবং রোগ নিরাময়কেও সহজ করেছে।
ব্যবসা - বাণিজ্য
প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বগ্ৰাম বা গ্লোবাল ভিলেজে গড়ে উঠেছে আধুনিক ব্যবসা বাণিজ্য। তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া আজকাল ব্যাংক, বীমা, ক্রেডিট কোম্পানি, পরিবহন এবং উন্নত বিশ্বের সাধারণ কেনাকাটা সহ অনেক কর্মকান্ডই অচল। ব্যবসা বাণিজ্যে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে; বাস্তবায়িত হচ্ছে ই-কমার্স । ব্যবসা বাণিজ্যর জন্য দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদান ও তথ্য যোগাযোগ, টেলিফোন, ফ্যাক্স, টেলিভিশন,টেলিপ্রিন্টার , কম্পিউটার বুলেটিন বোর্ড, ইলেকট্রনিক মেইল , ওয়েবসাইট এবং ইন্টারনেট ইত্যাদি অত্যন্ত জরুরি। এক কথায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ব্যতীত আধুনিক ব্যবসা - বাণিজ্য ও আমদানি রপ্তানিতে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে বই, কম্পিউটার, টিভি,ফ্রিজ , গাড়ি ইত্যাদি বস্তগত পণ্য বিক্রয়ের বিষয়টি সকলের দৃষ্টি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে। বর্তমানে ই-কমার্স প্রযুক্তির পণ্যের মধ্যে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় সকল পণ্যই যোগ হয়েছে। তাছাড়াও অনেক অদৃশ্য প্রকৃতির সেবা যেমন: ভ্রমণ সংক্রান্ত সেবা , সফটওয়্যার, এন্টারটেইনমেন্ট, ব্যাংকিং, ইন্সুরেন্স, ইনফরমেশন সার্ভিস, আইনগত পরামর্শ, স্বাস্থ্য পরিচর্যা,শিক্ষা, গবেষণা এবং সরকারি সার্ভিস ইত্যাদিও ই-কমার্সের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অফিস আদালত
সাধারণ অর্থে অফিস হলো কর্মক্ষেত্র যেখানে মানুষ কাজ করে। এন্টারপ্রাইজ পরিচালনার জন্য অফিস প্রয়োজন এন্টারপ্রাইজ বলতে আগে সাধারণত যে কোন আকারের ব্যবসা,বা কোম্পানি বুঝালেও বর্তমানে এন্টারপ্রাইজ বলতে বৃহৎ মাল্টিন্যাশনাল, ইউনিভার্সিটি, হসপিটাল, রিসার্চ ল্যাবরেটরি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান,শিল্প কারখানা ইত্যাদিকে বোঝায়। কোন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ভৌগলিক এলাকায় অবস্থানরত অফিসগুলো নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে একই সাথে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে অনেক অফিসেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কন্ট্রোল সিস্টেম ব্যবহার করে কর্মপদ্ধতিকে স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে।
গবেষণা
গবেষণার ক্ষেত্রে সণাক্তকরণ ডিজাইন ও বিশ্লেষণসহ এর প্রতিটি ধাপে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রয়োগের ফলে আধুনিক কালে এর বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই টেলিফোন, মোবাইল ফোন , স্মার্টফোন , টেলিভিশন , ইন্টারনেট ইত্যাদি মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এবং গবেষণা কর্ম উওরোওর সমৃদ্ধি লাভ করেছে। এর ফলে সমাজ তথা বিজ্ঞান সামনের দিকে এগিয়ে চলছে রকেটের গতিতে।
আজ থেকে একশো বছর আগে যে গবেষণা কর্ম শেষ হয়ে গেছে,তা নিয়ে আজ কেউ গবেষণা করছে না যা অতীতে করতো । বর্তমানে সর্বশেষ গবেষণা কর্মটি যেখানে শেষ , সেখান থেকে অন্য গবেষণা শুরু করেছে।ফলে বিজ্ঞান নিত্যনতুন সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের দ্বারে হাজির হচ্ছে।
সাধারণ
যোগাযোগের
স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা
ও সামাজিক যোগাযোগ
ব্যবসা - বাণিজ্য
অফিস আদালত
ও চিকিৎসা
স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা
বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ
ব্যবসা - বাণিজ্য
অফিস আদালত
ও সামাজিক যোগাযোগ
ব্যবসা - বাণিজ্য
অফিস আদালত
গবেষণা

টিপস পয়েন্ট ওয়ার্ল্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url